main_middle

স্কটল্যান্ডের সাধারন নিন্মবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন অ্যান্ড্রু কার্নেগী। জীবনের শুরুতে একটি কুড়েঘরে বেড়ে ওঠেন তিনি। ঐ ছোট ঘরকেই খাবারের ঘর ও ঘুমানোর ঘর হিসাবে ব্যবহার করতে হত তার পুরো পরিবারকে। ক্ষুধা ও দারিদ্র ছিল তার পরিবারের নিত্যসঙ্গী।

এরপর তার বাবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে পেনিসেল্ভিয়াতে পাড়ি জমান। এখানে এসে  অবস্থার উন্নতি না হলেও পরিবারকে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হত না। এখানে সুতার কাজ দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

যদিও এখানে তার আয় ছিল খুবই নগন্য। এখানে দৈনিক ১২ ঘণ্টা করে সুতার নাটাই পরিবর্তনের কাজ করতেন। এই কাজ তার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না বুঝতে পেরে কিছুদিন পর কাজটি ছেড়ে দিলেন।

এরপর সপ্তাহে ২.৫০ ডলার আয়ে টেলিগ্রাফ বাহকের কাজ শুরু করলেন। এই চাকরি তার জীবনে কিছুটা বিনোদন বয়ে নিয়ে আসে। চাকরির সুবাদে স্থানীয় থিয়েটার গুলোতে যেতে পারতেন। অল্পদিনের মধ্যেই তার বেতন সপ্তাহে ৪ ডলারে গিয়ে দাড়াল।

মাত্র আঠারো বছর বয়সেই তিনি ঐ কোম্পানীর অনেক উপরের অবস্থানে উঠে গেলেন। তার এই পরিবর্তনের মুলে ছিল অধ্যাবসায় ও কঠোর পরিশ্রম। এভাবে ধীরে ধীরে একজন বিনিয়োগকারীতে পরিনত হন। যার ফলশ্রুতিতে তিল তিল বিনিয়োগ করে যাচ্ছিলেন ‘আডামস এক্সপ্রেস কোম্পানি’তে।

এরপর কার্নেগি তার এক বন্ধুকে সাহায্য করতে তার গাড়ির ব্যবসার শেয়ার গ্রহন করেন। এই সুযোগে কার্নেগি তার সকল টাকা রেলওয়েতে পুনর্বিনিয়োগ করেন। দেশে গৃহযুদ্ধ লাগলে ঐ সময় তিনি যেসব বিনিয়োগ করেছিলেন তাতে আরো লাভবান হন এবং তার ভাগ্য খুলে যায়। তারমধ্যে একটিতে যেখানে ৪০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন সেটা তাকে খাঁড়ি তেলের উৎস সমৃদ্ধ স্টোরি ফার্মের মালিক হন। তার এই ফার্মের তেল ও পেট্রোলিয়াম পন্য থেকে যে টাকা লাভ হয়েছিল তা দিয়েই বছরের শেষেই তার ধার করা ১০ লক্ষ ডলারের ঋন পরিশোধ করে দেন। গৃহযুদ্ধ থেমে গেলে তার জন্মস্থান ডুনফার্মলিনে এলাকার এক  লাইব্রেরীতে ৪০ হাজার ডলার দান করেন। এছাড়াও যুদ্ধাহত মানুষদের পাশে দাড়াতে  মেডিক্যাল কলেজে আরো নার্স তৈরি করতে ও রোগীদের জীবন বাঁচাতে তিনি আরো ৫০ হাজার ডলার সাহায্য করেন। তেল ও স্টিল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে অল্পদিনের মধ্যেই তিনি সম্পদশালীতে পরিনত হন।

এবার নিজের আত্মকাহিনী নিয়ে প্রথম বই রচনা করেন। অল্পদিনের মধ্যেই বইটির ৪০হাজারের অধিক কপি বিক্রি হয়ে যায়। তার লেখনশৈলী এবং বুদ্ধিমত্তা তাকে তাড়াতাড়িই লেখক ও সাংবাদিক হিসাবে পরিচিত করে তোলে, যা তার আরো একটি আয়ের উৎসে পরিনত হয়। ১৮৯৮ সালের মধ্যেই তিনি ২০ মিলিয়ন ডলারের অধিক অর্থের মালিক হন এবং একটি নিলামে ২০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে স্পেনের কাছ থেকে ফিলিপাইন রাষ্ট্রটিকে কিনে নিতে চান কারন তিনি এর মাধকে ফিলিপাইনকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন। এই মহান উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, লেখক এবং সমাজসেবক ৮৩ বছর বয়সে ১৯১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং রেখে যান ৩৫০,৬৯৫,৬৫৩ ডলারের সমপরিমান সম্পদ যা আজকের হিসাবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও অধিক।

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।