Communication-Breakdown

আপনি বলে দিয়েছেন বলে অন্যরা তা বুঝে গেছে এমনটি কিন্তু সব সময় হয় না। যোগাযোগে ব্যর্থতা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম বড় বাধা।

যোগাযোগে ব্যর্থতা হতে পারে “ইনপুট” (আমরা যা দেখি এবং তা থেকে যা বুঝে থাকি) বা “আউটপুট” (আমরা যা চাইছি তা বর্ণনা করা) সমস্যার কারণে।

. ইনপুট সমস্যা। দৃষ্টিভঙ্গি বা চিন্তাধারার উপর ইনপুট সমস্যা নির্ভর করে থাকে। যেকোন পরিস্থিতিকে আমরা নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করাতে কতটা পারদর্শী? ভাল নেতৃত্ব বা উদ্যোক্তা মনোভাব থাকা সত্ত্বেও, সব সময় যা ঘটছে সেটার সম্পর্কে কী আমরা ওয়াকিবহাল থাকি? আমাদের মার্কেটপ্লেস, প্রতিযোগিতা, পণ্য ও কর্মীদের ব্যাপারে আমাদের যে মনোভাব তা কি আসলেই সঠিক? প্রায় ৭০ শতাংশ কার্যকারিতা হলেই আমরা তা অবশ্যই ভাল লক্ষণ হিসেবে ধরে নেই, এবং এর মানে হল আপনার ভুল করার ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

. আউটপুট সমস্যা, বা, আমরা যা চাই তা কীভাবে বর্ণনা করে থাকি। এখানে, তিনটি অন্তরায় রয়েছে যার ফলে নেতারা বাধার মুখে পড়তে পারেঃ

  • উচ্চাশা পোষণ করা। একজন নেতা হিসেবে আপনার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রস্তাবিত সমাধান বা ইচ্ছাগুলোকে আপনি কীভাবে বর্ণনা করবেন? আপনি আসলে কী হাসিল করতে চান? আপনি হয়ত বারবার অন্যদের কাছে আপনার লক্ষ্য তুলে ধরেছেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা আপনার কথার মর্ম বুঝে গেছে। আপনার কর্মচারীরা আপনার লক্ষ্য বুঝতে পেরেছে কিনা তা বোঝার বেশ কিছু পথ আছে। সার্ভে মানকি বা জুমেরাং এর মত সল্প ব্যয়ের অনলাইন জরিপ ব্যবস্থা হয়ত এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। বা সরাসরি কথা বলুন এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের সত্যবাদীদের মনযোগ আকর্ষণ করুন।
  • বেশি বেশি আশা করা। এটি ভূমিকার স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে সম্পর্কিত। কোন কোন কাজগুলো মানুষ শুরু, বন্ধ, চালিয়ে গেলে, জানলে, করলে বা এড়িয়ে গেলে আপনি সন্তুষ্ট থাকবেন? আপনার কর্মচারী কী করতে পারবে আর কী পারবে না সে ব্যাপারে কী তাদের পরিষ্কার ধারণা আছে? মানুষকে নেতা হতে বললেই সব হয়ে যায় না। তাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুযোগ দিতে হবে। তাদের ভূমিকা, অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে তাদেরকে জানাতে হবে। পুরনো স্মার্ট রীতি অনুসরণ করতে হবে – সকল নির্দেশনা হতে হবে নির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য, করার মত, বাস্তব সম্মত ও সময় মত। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষদেরকে দুটি জিনিস জানতে হবেঃ
  • যদি সিদ্ধান্তটি তাদেরকেই নিতে হয়, তাহলে তাদের (এবং অন্যদেরকেও) এটি স্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে।
  • আগেভাগেই যদি তাদেরকে অন্যদের সম্মতি নিতে হয়, তাহলে সেটাই পরিষ্কারভাবে তাদেরকে বলে দিতে হবে।
  • সময় মেনে না চলা।  এটি তখন হয় যখন আমরা সময় মত প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক দিতে ব্যর্থ হই। ছ মাস আগে কাজের পর্যালোচনায় যে কথা বলার দরকার ছিল কিন্তু এখনও বলা হয়নি তা এই শ্রেণীর অন্তর্গত। এর মধ্যে আরও আছে – কাউকে সময় মত অনুপ্রেরণা না দেওয়া বা সাইডলাইনে সবকিছু রেখে দেওয়া, শুধু দরকার পড়লেই এগিয়ে যাওয়া তার আগে নয়। সবকিছু ম্যানেজ করতে সবাই চায় কিন্তু কষ্ট করে হলেও এটি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আগে সময়ের মূল্য দেওয়া জানতে হবে।

উপরে উল্লেখিত সমস্যাগুলো একদিনে সমাধান করা সহজ নয়। আর সবাই যে এগুলোকে সচেতনভাবে সব সময় এড়িয়ে যাবে তাও কিন্তু সব সময় হয় না।

[অনুবাদ]

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।