সম্প্রতি ‘প্যানটিন’ এর একটি বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম যা জুন মাসে খুব প্রচলিত হয়েছিল যেখানে সবক্ষেত্রে দুঃখিত বলার অভ্যাসকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

যেখানে অভিনেত্রীদের সুন্দর ও নিখুঁত চুল দেখানো ছাড়াও কিছু কতিপয় ঘটনা বিকশিত হয়েছে; যেখানে আলোচনায় নারীদের ‘দুঃখিত’ শব্দের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের প্রচলনকে তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটিতে কারণে অকারণে, নারীদের ‘দুঃখিত’ শব্দের ব্যবহার লক্ষনীয়। ব্যাপারটি খুব পরিষ্কার যে, নারীরা অনুতপ্ত হতে পারে/পারবে না। যদিও আমি এটা সারাক্ষণই করি, আজকেও করেছি।

তাই আজকে ‘দুঃখিত’ শব্দের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের কিছু সংক্ষিপ্ত কারন ও তার প্রতিস্থাপনে ৫টি কথা বলার উপায় জানিয়ে দিচ্ছিঃ

১। সহানুভূতি ও সমবেদনা দেখা

শুধু নারীরা ন্য় ,অনেকেই সমবেদনা দেখাতে ‘দুঃখিত’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। সহকর্মীর সাথে ঘটা অপ্রয়োজনীয় এবং পরিহার্য ঘটনার জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করাটা নম্রতা ও বুদ্ধিদীপ্ত।

বোঝার প্রকট এবং সহকর্মীদের সাথে বিশ্বাসের সম্পর্ক স্থাপন করার জন্যঅন্য উপায়ও আছে। তর্কসাপেক্ষে, এটি আমাদের শব্দভান্ডার থেকে “দুঃখিত” শব্দতি মুছে ফেলার জন্যসবচেয়ে সহজ পদ্ধতি কারণ আরও অনেক চমৎকার বিকল্পও আছে।

  • পরিবর্তে: “আমি দুঃখিত যে, ঢাকার ভয়ানক ট্রাফিক জ্যামের কারণে আমার দেরী হয়েছে।”
  • ব্যবহার করে দেখুন: “ভয়াবহ ট্রাফিকের কারণে আমার দেরী হয়েছে – ব্যাপারটি খুবই হতাশাজনক।”

 

২। অভিব্যক্তি পূরণ করতে

ঠিক যেমন”উম”, “আ” এবং “যেমন” শব্দের মত “দুঃখিত” খালি আলাপচারী স্থানপূরণ করতে পারে ।এটা হতে পারে আমাদের স্নায়বিক চাপের কারণে বা বুলি আওড়ানোর ফলে যখন আমাদের মুখ আমাদের মস্তিস্কের চিন্তাটি ধরতে সময় নেয়।উভয় ক্ষেত্রেই,”দুঃখিত” সম্পূর্ণরূপে তার অর্থ হারায়।

  • পরিবর্তে: “আমরা …দুঃখিত…প্রথমেফাইন্যান্সথেকেসঠিকতথ্যপেতে হবে।”
  • ব্যবহার করে দেখুন: “আমরা<বিরাম প্রয়োজন/নীরবতা > প্রথমেফাইন্যান্সথেকেসঠিকতথ্যপেতেহবে।”

৩। ব্যাঘাত ঘটাতে

বেশীর ভাগ মেয়েরা বিশেষত কর্মক্ষেত্রে, সবসময়ে অপর্যাপ্তরূপে ভদ্র হতে উত্থাপিত করে। এর বিকল্পের জন্য, আপনার কাজের পরিবেশ সম্পর্কে জানাটা অত্যন্ত জরুরী।

সাংগঠনিক সংস্কৃতি, সভার ধরণ, উপস্থিত ব্যক্তিগণের উপর নির্ভর করে, ক্ষমা চেয়ে বাধা দেয়া, আপনার অবস্থানকে নিচু করে ফেলার সমতুল্য (বিশেষ করে যখন অন্যরা এই কাজটি করা থেকে বিরত থাকছে)। আপনারসহকর্মীরা সভায় কীভাবে তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করছে সেটা খেয়াল করুন; “দুঃখিত” বলা থেকে বিরত থাকুন যতক্ষণ না তারা বলে।

  • পরিবর্তে: “আমি বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত…”
  • ব্যবহার করুণঃ “আমার জিজ্ঞাসা…/গ্রেটপয়েন্ট, আমি আরও যোগ করতে চাই…”
  • পরিবর্তে: “দুঃখিত, আপনার এক মিনিট সময় হবে?”
  • ব্যবহার করুণঃ”আমাকে মাফ করবেন…”

৪। শান্তি বজায় রাখার জন্য

বেশীর ভাগ নারীদেরকে ছোটবেলা থেকে পৃষ্ঠপোষকতা, উষ্ণএবং অমায়িক হওয়া শিখানো হয়। এবং আমরা কখনও কখনও কেবল সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য “দুঃখিত” ব্যবহার করে থাকি। দুঃক্ষিত মাঝে মাঝে মুখোমুখী বিতর্কমূলক বা অস্বস্তিকর মুহূর্তের পরে কথোপকথনে পুনরায়রত হতে সাহায্য করে। অবশ্য, “দুঃখিত” লজ্জা ও অনুতাপের প্রতিনিধিত্ব করে এবং আপনাকে দুর্বলও বোঝাতে পারে।

  • পরিবর্তে: “আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি এই কৌশলটি বুঝতে পারছিনা.”
  • ব্যবহার করে দেখুন: ” আপনার কাজটি প্রশংসনীয়, কিন্তু আমি এই কৌশলটির পিছনে যুক্তি বুঝতে পারছিনা.”
  • পরিবর্তে: ” আমি দুঃখিত যদি ব্যাপারটি আক্রমণাত্মক হয়ে থাকে/ অসন্তোষজনক হয়ে থাকে …”
  • ব্যবহার করে দেখুন: “যা আমি বলতে যাচ্ছি তা বিতর্কিত হতে পারে…”

৫। “দুঃখিত” যখন প্রকৃতপক্ষে বলা বা বোঝানো হয়

কর্মক্ষেত্রে ক্ষমা চাওয়ার প্রচুর উপযুক্ত সময় আছে। দুঃখিত হওয়া শুধু মুখ্য না,দুঃখিত হওয়ার কারণ প্রকাশ করাও আবশ্যক। আপনার যদি প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ক্ষমা চাওয়ার প্রবণতা থাকে, আমার গ্যারান্টি যে কারণ দর্শীয়ে ক্ষমা চাওয়ার অনুশীলন আপনার এই প্রবণতাকে কমিয়ে আনবে। সংগত কারণ একটি আন্তরিক ক্ষমাকে আরও কার্যকর করে।

প্যানটিনের ভিডিওটির কথাই ধরে নিন। ভিডিওটিতে লোকটি দেরি করে আসে এবং দুইজন নারী তাকে বসার জায়গা করে দেয়ার জন্য বিচলিত হয়ে পরে ও পুনঃপুনঃ ক্ষমা চায়। কিন্তু তারা কেন দুঃখিত ছিল সেটা যদি তারা ব্যাখ্যা করত, তাহলে কিছুটা এরকম হতোঃ “আমি দুঃখিত যে আপনি মিটিং এ দেরিতে এসেছেন এবং আপনাকে এখন জায়গা করে দেয়ার জন্য চেপে আমাকে বসতে হচ্ছে।” (দেখুন, সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়!)

বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে কখন “আমি দুঃখিত” কথাটি বলতে হবে এবং কখন এর পরিবর্তে অন্য কিছু বলা উপযুক্ত হবে সেটা নির্ধারণ করতে পাড়াটা আপনার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিবে।

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।