আজকের ব্যস্ত, প্রতিযোগিতাময় ও চাপপূর্ণ জীবনে “সুখ” যেন ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে। অর্থ, পদবি, প্রযুক্তি—সবকিছু থাকার পরও অনেক মানুষ নিজেকে ভেতরে ভেতরে শূন্য অনুভব করেন। এই বাস্তবতায় তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ Dr. Howard Cutler যৌথভাবে লিখেছেন এক অনন্য বই—The Art of Happiness। এই বই আমাদের শেখায়, সুখ কোনো বাহ্যিক অর্জন নয়; বরং এটি একটি মানসিক দক্ষতা (Mental Skill), যা চর্চার মাধ্যমে গড়ে তোলা যায়।

সুখ কী?

দালাই লামার মতে, জীবনের মূল উদ্দেশ্যই হলো সুখী হওয়া। কিন্তু এই সুখ ক্ষণস্থায়ী আনন্দ নয়; এটি হলো অভ্যন্তরীণ প্রশান্তি (Inner Peace)। বাহ্যিক পরিস্থিতি সবসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, কিন্তু আমাদের প্রতিক্রিয়া (Response) সবসময় আমাদের হাতে।

মন ও দৃষ্টিভঙ্গির ভূমিকা

বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—আমাদের মনই আমাদের সুখ–দুঃখের মূল উৎস। নেতিবাচক চিন্তা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা, ঈর্ষা ও রাগ আমাদের মানসিক শান্তি নষ্ট করে। দালাই লামা বলেন,

“যদি তুমি মনকে প্রশিক্ষণ দাও, তবে দুঃখও শিক্ষক হয়ে ওঠে।”

দুঃখ ও কষ্টের অর্থ

এই বইয়ে দুঃখকে এড়িয়ে চলার পরিবর্তে তাকে বোঝার ও গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। দুঃখ জীবনের স্বাভাবিক অংশ। এটি আমাদের সহানুভূতিশীল করে, বাস্তববাদী করে এবং অন্যের কষ্ট বোঝার সক্ষমতা বাড়ায়।

করুণা ও সহমর্মিতা

করুণা (Compassion) হলো বইটির কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। অন্যের সুখ কামনা করা শুধু নৈতিক গুণ নয়, বরং এটি নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে—যারা নিয়মিত অন্যকে সাহায্য করেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুখী হন।

সম্পর্ক ও মানবিক সংযোগ

মানুষ সামাজিক প্রাণী। গভীর ও আন্তরিক সম্পর্ক আমাদের জীবনে অর্থ যোগ করে। ক্ষমা, ধৈর্য ও শ্রদ্ধা—এই তিনটি গুণ সম্পর্ককে শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুখ নিশ্চিত করে।

The Art of Happiness কোনো ধর্মীয় বই নয়; এটি একটি ব্যবহারিক জীবনদর্শন। এখানে সুখকে কল্পনাপ্রসূত কিছু নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে চর্চার মাধ্যমে অর্জনযোগ্য একটি দক্ষতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যদি আমরা আমাদের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে সামান্য পরিবর্তন আনি, তবে সত্যিকারের সুখ আমাদের নাগালের মধ্যেই।

Similar Posts