bossটিম ম্যানেজমেন্ট এর ৬টি পরিবর্তন আপনার কর্মচারীদের উৎসাহী করে তুলবে। অসাধারণ বসদের কিছু গুণাবলির তত্ত্ব রয়েছে। অনেকের কাছে সেগুলো তুমুল জনপ্রিয় হলেও তাতে অফিসের বসদের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তেমন কোন কার্যকরী পরামর্শ নেই। অনেক মূল্যায়নে দেখা যায় যে কর্মচারীরা তাদের বসদের হয় খারাপ বলেছেন নয়ত অনেক প্রশংসা করেছেন। সবাই চায় কর্মচারীদের কাছে একজন ভালো বস হতে। একজন ভালো বস হওয়ার ৬টি উপায় এখানে তুলে ধরা হলঃ

 

১। সংখ্যা নয়, মানুষকে প্রাধান্য দিন::

সাধারণত ব্যবসা হয় সংখ্যার উপর ভিত্তি করে। এ কারণে অনেক ম্যানেজার সংখ্যা নিয়েই পড়ে থাকেন। কখনও কাটাকাটি করেন, নয়ত গ্রাফে বসান আর নয়ত সংখ্যার বর্তমান অবস্থা যে আশানুরূপ নয় সে বিষয়ে কথা বলেন। তবে, ব্যবসার সকল সংখ্যাই নির্ভর করে আপনার কর্মচারীদের আপনি কিভাবে কাজে লাগাচ্ছেন তার উপর, সংখ্যা সাজানোর উপর নয়। যেভাবেই হিসাব করেন না কেন, আপনার জন্য যারা কাজ করে তাদের কর্মক্ষমতা বাড়লেই লাভ বাড়বে।

 

২। প্রাসঙ্গিক ও সহজ মূল্যায়ন:

যেহেতু সংখ্যার চেয়ে কর্মচারীরদের দিকে আপনাকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে, তাই আপনার কর্মচাররীরা কেমন কাজ করছে তা আপনার মূল্যায়ন করা দরকার। যাতে সবাই বুঝতে পারে আপনি কি চান, কেমন করে চান সেরকম একটি মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। আবার, জটিল কোন মূল্যায়ন ব্যবস্থা কর্মচারী ও ম্যানেজারদের মাঝে আপনার চাওয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি করবে। আর কর্মচারীদের কোন কাজেই যদি সঠিক মূল্যায়ন না হয় তবে সম্পূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা শুধু মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে।

 

৩। একজনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ দিন:

কিছুদিন আগে পরিচিত একজন বলছিল তার বস নাকি তাকে কয়েকটি কাজ দিয়ে বলেছিলেন সব গুলোই “অগ্রাধিকার” ভিত্তিতে করতে। কিন্তু যদি সবকিছুই অগ্রাধিকার দিতে হয়, তখন আসলে কোন কিছুই অগ্রাধিকার পায় না। প্রাধান্য দেওয়ার সম্পূর্ণ বিষয়টির মানে হল, কোন একটা বিষয় অন্য সব কিছুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা। একাধিক কাজ “অগ্রাধিকার” ভিত্তিতে করতে বলার মধ্য দিয়ে আসলে তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হচ্ছে কোনটা  অগ্রাধিকার পাবে। সেটা হয়ত বসগণ ভালোভাবে করতে পারবেন!

 

৪। কর্মচারীদের প্রতি কখনই নিজের মনোভাব প্রকাশ করবেন নাঃ

একজন কর্মচারী তার ব্যবস্থাপককে একজন মানুষ হিসেবেই গন্য করেন, বুঝতে পারেন তিনি কাজের চাপে আছেন, এবং অবশ্যই সময়ের সমন্বয় তাকে করতে হয়। তারা এও বুঝতে পারেন যে, বস হতাশা এবং ক্রোধের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, মূলত যখন কোনও খারাপ খবর তাকে শুনতে হচ্ছে, কিংবা এমন কোনও ভুল যা সহজেই পরিহার করা যেত, এবং আরও অনেক কিছুই হতে পারে। কিন্তু এরপরেও যদি আপনি আপনার কর্মচারীর উপর ক্রোধ প্রকাশ করেন, কিংবা দূর্ব্যবহার করেন, তবে তা আপনার কর্মাচারীর উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে যা হয়তবা কখনই মুছে ফেলা যাবে না, বা তার আপনার প্রতি গোপন ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে। ব্যাপারটা এমন না যে আপনাকে নিঁখুত হতে হবে, বরং এমনভাবে চিন্তা করুন যে আপনার কর্মচারী আপনার রাগ প্রশমনের স্থান নয়।

 

৫। নিজেকে সবচেয়ে বাজে কর্মচারী দিয়ে বিচার করুনঃ

ম্যানেজারেরা মূলত নিজেদের সাফল্য শীর্ষ কর্মচারীদের মাধ্যমে করে থাকেন। কিন্তু, মূলত যা হয়, যখন আপনি কোনও দক্ষ কাউকে নিয়োগ দিবেন, কিংবা কাউকে দক্ষ করে তুলবেন সেই সাফল্যটুকু কিন্তু সেই কর্মচারীর ঝুলিতেই যাব, তার দক্ষতা, কাজ করার যোগ্যতা তার হিসেবেই গণ্য হবে – আপনার নয়। বরং আপনার উচিৎ নিজের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা নিজের সবচেয়ে অদক্ষ বা মন্দ কর্মচারীদের আপনি কিভাবে পরিচালনা করছেন তার মাধ্যমে বিচার করা। এরাই সেসব কর্মচারী যারা সবচেয়ে নিম্নমানের কাজ প্রদর্শন করবে যা আপনার সহ্যসীমার শেষ পর্যায়ে পড়ে এবং তাদের মন্দ দিকগুলোর জন্য অন্য কর্মচারীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পুষিয়ে নেয়ার কথা আপনি আশা করেন।

 

৬। সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিন, গড় নয়ঃ

ম্যানেজারদের মধ্যে এক ধরনের প্রবণতা দেখা যায় যে তারা বেতন, অতিরিক্ত কোন সুবিধা, বিক্রির কমিশন ইত্যাদি ব্যয়ের খাতে ফেলে দেন, এবং তা হ্রাসের মাধ্যমে মুনাফা লাভের চেষ্টা করেন। কিন্তু সত্যি হল, ব্যবসা খাতে আপনি যদি গড় বেতন দিতে থাকেন তবে আপনি কর্মচারীদের কাছে গড় কাজের মান ছাড়া আর কিছুই আশা করতে পারেন না। হয়তবা, ইন্টারনেটর পূর্বযুগে একজন দক্ষ কর্মচারীকে তার যোগ্যতার কম বেতন দিয়ে রাখা যেত, কিন্তু আজ এ ইন্টারনেটের যুগে যেসব কর্মচারীদের সামান্যতম ধারণাও আছে তা রা খুব ভাল করেই জানেন কোথায় গেলে আরো বেশি অর্থ উপার্জন করা যাবে।

 

Similar Posts

Leave a Reply