woman-happiness1আপনার আশে পাশে সুখী হবার অনেক প্রচলিত তত্ত্ব শুনতে পাবেন। এগুলোর মধ্যে কিভাবে আপনি আপনার নিজস্ব রাস্তা বের করবেন তা আলোচনা করা হলঃ

মাস দুয়েক আগে একজন রোগী একজন সাইক্রিয়াত্রিকের এসে বললেন, “আমি শুধু সুখী হতে চাই। আমার সারা দিন দুঃখে কাটে এবং এই দুঃখের উপরই আমি মননিবেশ করি”।

এটা খুবই সাধারন একটি অনুরোধ যা মনোবিশেষজ্ঞগন প্রায়ই শুনে থাকি।

কয়েক সপ্তাহ পরে তার মুখে হাসি দেখা গেল। শিগ্রই সে হাসির এবং মজার কাণ্ড কারখানা করতে লাগলো। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, তিনি কি সুখী হতে পেরেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, “না”।

এরপর তার থেকে যা জানা গেল তা হল, তিনি সুখী বলতে বুঝেন যে তিনি কখনও খারাপ বোধ করবেন না। তার মতে একজন সুখী মানুষের জীবনে কখনও কোন খারাপ সময় আসবে না, কোন খারাপ ব্যপার ঘটবে না। কিন্তু বাস্তব জীবনে এটা একেরাবেই অবাস্তব।

জীবনে বিভিন্ন ধাপ আসবেই। কিন্তু আমরা যদি খারাপ সময়কে একটি সাধারন ব্যপার হিসেবে গ্রহন না করতে পারি, তবে আমরা হয়ত ভালো সময়টিকেও পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন না। যেখানে অন্ধকার থাকবে সেখানেই আলো আসবে। এটাই প্রকিতির নিয়ম। এটাকে আমাদের মেনে নিয়ে বেঁচে থাকা উচিত।

ঐ রোগীটি এটাই বুঝতে পারছিলনা। আর এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নের জন্ম দেয় তা হল, “সুখ আসলে কি?”

খুব সাধারন ভাবে, সুখ হল একটি মানসিক অবস্থা। সত্যিকারে আমাদের চারপাশের সবকিছু আমাদের সুখের অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। সুখ আমাদের মধ্যেই আছে, আমাদের চারপাশে না। আমাদের সবার মধ্যেই এটা আছে কিন্তু আমারা একেকজন একে একেকভাবে ব্যখা করি যা আমাদের একেক জনের প্রত্যাশাকেই তুলে ধরে। এর মাধমে আপনি একেক জনের সুখী হবার ক্ষমতাও বুঝতে পারবেন। তবে এটা কখনও কখনও আপনাকে বিভ্রান্তও করে দিবে।

নিচের তিনটি ধাপ আপনাকে একটি সুস্থ এবং সুন্দর সুখী জীবনের দিকে নিয়ে যাবে।

১। একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করুন

মারটিন স্লেইগম্যান, ইতিবাচক মনোবিজ্ঞান এক নেতৃস্থানীয় গবেষক এবং “অথেনটিক হ্যাপিনেস” বইটির লেখক। স্লেইগম্যান বলেছেন, সুখের তিনটি অংশ আছে। এগুলো হলঃ আনন্দ, সংশ্লিষ্টতা এবং তার অর্থ অনুধাবন। আনন্দ হল সুখের “ভালো লাগা” অংশটি। সংশ্লিষ্টতা নির্ভর করে “ভালো ভাবে” কর্মক্ষেত্র, পরিবার, বন্ধু ইত্যাদি নিয়ে বেঁচে থাকা। আর তৃতীয় বিষয়টি হল, কিভাবে একটি বড় কিছু পাবার জন্য আমরা আমাদের শক্তি ও সামর্থ্য নিয়োজিত করি। স্লেইগম্যান বলেছেন, এই তিনটি ব্যপারই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সংশ্লিষ্টতা এবং সুখের অর্থ অনুধাবন সুখী হিসেবে বেঁচে থাকাকে সবচেয়ে প্রভাবিত করে।

আপনার সাথে সবার সম্পর্কগুলোর দিকে একবার তাকান। সবাই কি খুশী? আপনার কর্মক্ষেত্রে আপনার কি যথেষ্ট পরিমান সমর্থন আছে? যদি না থাকে, এটা তৈরি করতে কাজ করুন। যখন রাস্তায় আপনার দুর্ঘটনা ঘটে, আপনি যদি আপনার চারপাশে সবাইকে আপনাকে সমর্থন করতে দেখেন, এটা আপনার জন্য একটা নতুন দুনিয়া খুলে দিবে। একটু ভেবে দেখুন, আপনি একটি অর্জনের জন্য কতটুকু চেষ্টা করেন? আপনার যতটুকু ক্ষমতা আছে, তার বাইরে কোন কিছুর উপর আপনার চাওয়া থাকলে আপনাকেও অনেক বেশি চেষ্টা করতে হবে তা পাওয়ার জন্য।

 

২। বাস্তবসম্মত এবং অর্জন করা সম্ভভ এমন কিছু প্রত্যাশা করুনঃ

আমরা মানুষ। জোর করে বা মিথ্যা সুখ, দুঃখ এবং হতাশা নিয়ে আসে। যদি আপনি আপনার সুখের ক্ষেত্র তৈরি করেন এবং অর্জনও করেন, তবে আপনার জীবনে উত্তান ও পতন থাকবেই। আপনি ঐ উত্থান ও পতন কিভাবে নিয়ন্ত্রন করবেন তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। দুশ্চিন্তা এবং নেগেটিভ চিন্তা আপনার ব্যলান্স নষ্ট করে দিবে। সত্যিকারের আচরন করুন, চাপ পরিহার করুন এবং তাহলেই আপনি দ্রুত অগ্রসর হতে পারবেন।

 

৩। আপনার মনোভাব প্রকাশ করুন, চেপে রাখবেন না

কিছু কিছু দিন থাকবে যখন সকালে আপনার ঘুম থেকে উঠে ভালো লাগবে না। আপনি এটা বুঝতে পারেন বা না পারেন, তবে এটা জরুরি যে, আপনাকে মানতে হবে এটা একটি স্বাভাবিক ব্যপার। নিজের ব্যপারে ধৈর্য রাখুন। অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকুন। কোনরূপ সমালোচনা ছাড়া নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করুন। “এরকম হলে আমার অসহ্য লাগে” না বলে “এটা মজার তো” বলার চেষ্টা করুন। ভালো থাকার চেষ্টা করুন এবং নিজের অনুভবগুলোকে নিজের বিচার বিবেচনা দিয়ে বুঝার চেষ্টা করুন। যদি না পারেন, তবে অন্য কিছুর দিকে মনোনিবেশ করুন।

৪।পরিবর্তনের জন্য তৈরি থাকুনঃ

উত্থান এবং পতন স্বাভাবিক ব্যপার। কিন্তু আপনি যদি প্রতিনিয়ত অসুখী থাকেন তাহলে আপনার উচিত আপনার শরীর এবং মনের কথা শোনা। পরিবর্তনের কথা শুনলে সবার মনেই একটা অজানা আশঙ্কা কাজ করে। আপনি যদি এই আশঙ্কাকে পাত্তা না দেন, তবে আপনার খারাপ লাগা কমবে এবং আপনার অবচেতন মন আপনাকে আস্তে আস্তে পরিবর্তনের জন্য তৈরি করবে। তখন এটা আপনার জন্য সহজও হয়।

আপনার নিজের অসুখী থাকার কারন কি? সময় নিন এবং একটা তালিকা বানান। সামনের পরিবর্তনগুলোকে মেনে নিন। আপনিও সুখী হবেন।

[অনুবাদ]

Similar Posts

Leave a Reply