Tension-Relaxationযখন অনেক কিছু একসাথে হতে থাকবে, আপনি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন কোনটা ছেড়ে কোনটা করবেন, তখন নিচে উল্লেখিত সহজ কিছু বিষয় মেনে চলুন।

আপনি নার্ভাস না, আপনি আসলে ভয় পাচ্ছেন। কয়েক মিনিট পরে হয়ত আপনাকে একজন বড় ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলতে হবে বা একটা জরুরী মিটিংয়ে কথা বলতে হবে। অথবা বড় একটা বিক্রির জন্য ক্রেতার সাথে কথা বলতে হবে। এই সময় আপনার মনে হবে এটা করতে না পারলে সব শেষ। এই অবস্থায়, চিন্তায় আপনি কখনই ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন না।

আপনি যদি আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনার নিজেকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে না পারেন তবে মানুষ আপনাকে বাদ দিয়ে আর একজনের কাছে চলে যাবে। সবাই আসলে সবদিকে যাওয়ার রাস্তা সবসময় খোলা রাখে।

তাহলে আপনি লোকের সামনে কিভাবে নিজের মেধা আর আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দেবেন?

এটা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্পূর্ণই আপনার নিজের পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে। নিজেকে নিজে ট্রেনিং দিন। আপনার কথা আর যুক্তি শুনে যাতে মনে হয় আপনি নিজে এই কথা গুলো বিশ্বাস করেন। আপনার মন আর মস্তিষ্ক দুটোকেই এক লাইনে নিয়ে আসুন। মানুষের সামনে নিজের সত্যিকারের পরিচয় তুলে ধরুন।

কাজটা কিন্তু খুব একটা কঠিন কিছু নয়।

আপনি যখনি ভয় পাবেন বা দুশ্চিন্তায় পড়বেন তখনি নিজেকে জোর করে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলুন।

 

১। আপনার খুব কাছের কোন মানুষের ছবি সাথে রাখুন।

আপনার মা, বাবা, স্বামী/স্ত্রী, পুত্র কন্যা দের ছবি। দুই-এক মিনিট এই ছবির দিকে তাকিয়ে থাকলে আপনার নার্ভগুলো শিথিল হয়ে আসবে। আত্মবিশ্বাস বাড়বে আর দুশ্চিন্তা কমবে। যত ঝামেলাতেই থাকুন না কেন, আপনি স্বাভাবিক হয়ে আসবেন।

 

২। হাতের কাছে নরম একটা বল রাখুন।

হাতে একটা নরম বল নিয়ে সেটাকে টিপলে আপনার পেশীগুলো সংকুচিত আর প্রসারিত হবে। এর ফলে আপনার হার্ট বিট কমে আসবে, আপনার টেনশন কমবে। হাতে পাথর বা খেলার মত কিছু রাখতে পারেন। যেজন্য অনেকে দেখবেন কলম নিয়ে খেলে, এতে তাদের মনোযোগ বাড়ে।

তবে এটা নির্ভর করে আপনার চেতনার উপর। আপনার অজান্তে যে নড়াচড়া আপনি করছেন, সেটা আপনাকে ভয় দূর করতে সাহায্য করে। ব্যাপারটা যেন, আপনি কোথায় আছেন সেটা জানতে পারলেই আপনার ভয় কমে যাবে।

তবে আপনার খেলা যেন অন্যদের মনোযোগ নষ্ট না করে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

 

৩। যোগ ব্যায়ামের বলের উপর বসে লাফাতে থাকুন।

যদিও যত সময় ধরেই লাফান না কেন সেটা আপনার জন্য পজেটিভ, তবুও পনের মিনিট যথেষ্ট। এই লাফানোর কারণে আপনার শরীরে আর মাথায় রাসায়নিক অনেক পরিবর্তন হয়, সেই সাথে আপনার হাসি আপনাকে আরও চিন্তা মুক্ত করে। আপনি যখন মজা করেন বা খেলাধুলা করেন তখন, আপনার শরীর থেকে উত্তেজনাকর কোন পদার্থ নিঃসৃত হয় না বরং আপনার শরীর আর মস্তিষ্ক যাতে উত্তেজিত না হয় সে জন্য এন্ডোফ্রাইন নিঃসৃত হয়।

বিশ্বাস হচ্ছে না? আসুন বিজ্ঞান কি বলে জেনে নিই।

  • লাফালাফি করলে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিয়োজিত অংশগুলো সক্রিয় হয়। এই অংশগুলো স্নায়ু ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে।
  • লাফালে সতর্কতা বাড়ে আর দুশ্চিন্তা কমে, যার ফলে নিজেকে মুক্ত আর চাঙা মনে হয়।
  • লাফালে আপনার ব্রেনের কথা বলা নিয়ন্ত্রণ করে যে অংশ সেটা ভালোভাবে কাজ করে।
  • লাফানোর ফলে, আপনার স্নায়ুর যে অংশ মনোযোগ আর সচেতনতা বাড়ায় সেটা সক্রিয় হয়।

 

৪। কল্পনা করুন।

সফল যত খেলোয়াড়, ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী আছে সবাই কল্পনাকে একটা শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

নতুন কোন কিছু করার আগে আপনি চিন্তা করুন এমন কোন একটা কাজের কথা, যেটা আপনি খুব ভালোভাবে করেছেন (যদিও বর্তমানের সাথে এর কোন সম্পর্ক না থাকতেই পারে)। এতে করে আপনার মস্তিষ্ক এমন কিছু পদার্থ (সেরওটোনিন আর অক্সিটোসিন) নিঃসৃত করে যাতে আপনার আত্মবিশ্বাস, উদ্যম আর উদ্দীপনা বাড়ে।

আপনিতো কিভাবে কি করবেন সেটা নিয়ে চিন্তা করবেনই তাহলে, চিন্তা করুন ব্যাপারটাকে আপনি যেভাবে চান। কল্পনা করুন আপনি সফল হয়েছেন।

সাফল্য নিয়ে ভাবুন, লাভ হবে।

 

৫। গভীর শ্বাস নিন।

গভীরভাবে পেট দিয়ে শ্বাস নিলে শরীরে অ্যাড্রেনালিন কমে যায়। এর কারণেই ডাক্তাররা বলেন, “জোরে শ্বাস নিন…”। এই অ্যাড্রেনালিন আপনাকে মারামারিতে আর জীবন বিপন্নকারী ঘটনাগুলোতে সাহায্য করে। আর আপনার স্বাভাবিক চিন্তা ভাবনাকে আচ্ছন্ন করে রাখে।

আপনার পেট আর বুক ফুলিয়ে দুই মিনিট জোরে শ্বাস নিলে আপনার ভয় কমে যাবে।

এক নাম্বার বা দুই নাম্বার বা সবগুলো একসাথে করে দেখুন। যদি অতিগুরুত্বপূর্ণ কোন কাজে আপনি অতিরিক্ত নার্ভাস থাকেন তবে দেখবেন এগুলো খুব কাজে দেবে।

[অনুবাদ]

Similar Posts

Leave a Reply